বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   অপরাধ-দূর্নীতি
প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি, দুই ফোন নম্বর ঘিরে রহস্য
  Date : 17-10-2026
Share Button

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে দেশের এক স্বনামধন্য ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দুটি মোবাইল নম্বর থেকে করা কলের ঘটনায় পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বরে যোগাযোগ করে এক ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে ‘সালিক’ পরিচয় দিলেও পরে নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তা অস্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক। ওই ব্যক্তি অর্থ দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ০১৮৬৩২৬৬৩১৯ ও ০৯৬৫৮৪৯৮১৭০ নম্বর দুটি থেকে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কলের অপর প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। নম্বর দুটির একটি সাধারণ মোবাইল সংযোগ এবং অন্যটি আইপি কলিং নম্বর বলে জানা গেছে।

কলার আইডেন্টিফিকেশন অ্যাপ ট্রুকলারে ০১৮৬৩২৬৬৩১৯ নম্বরটি ‘জিয়া পরিবার’ নামে দেখাচ্ছিল। মেসেজিং অ্যাপ ইমোতে নম্বরটির পরিচিতি ছিল ‘তারেক রহমান’ নামে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের সময় হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছবিটি পরিবর্তন করে তিনটি গোলাপের ছবি দেওয়া হয়। গত ১৩ অক্টোবরের পর থেকে নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

০৯৬৫৮৪৯৮১৭০ নম্বরটিতে ফোন করা হলে প্রথমে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ওই নম্বর থেকে কল ব্যাক করা হয়। তখন কলকারীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি না জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘সালিক’ বলে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে তিনি কারও কাছে টাকা চাননি বলে দাবি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

পরবর্তী সময়ে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘সালিক’ কি না জানতে চাওয়ার পর তা অস্বীকার করেন বলে প্রতিবেদক জানিয়েছেন। পত্রিকার পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চাকরি করেন। কোন ব্যবসায়ীর কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে, তাঁর নাম জানতে চান তিনি। ওই ব্যবসায়ীর নাম জানলে বিস্তারিত বলতে পারবেন বলেও জানান।

প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে টাকা দাবির প্রমাণ থাকার কথা জানানো হলে ওই ব্যক্তি বলেন, এভাবে টাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দেওয়া হয় চিকিৎসাব্যয়ের জন্য। তবে তাঁর পরিচয় জানতে চাওয়া হলে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জনসমক্ষে বিতর্কিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদক জানান।

তবে ওই ব্যক্তির পরিচয়, তিনি কোনো সরকারি দপ্তরে কর্মরত কি না এবং তাঁর সঙ্গে কথিত অর্থ দাবির ঘটনার সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফোনালাপের রেকর্ড, কলের সময়, নম্বর দুটির গ্রাহক-তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বক্তব্য যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

ঘটনাটির সঙ্গে কোনো প্রতারক চক্র জড়িত কি না, কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। 

এ ক্ষেত্রে নম্বর দুটির সিম নিবন্ধনের তথ্য, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), আইপি কলের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট মেসেজিং অ্যাকাউন্টের তথ্য আইনসম্মতভাবে পরীক্ষা করা হলে পরিচয় শনাক্তে সহায়তা মিলতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীর কাছে অর্থ দাবির কোনো বার্তা, কল রেকর্ড বা অন্য প্রমাণ থাকলে তা যাচাই করা প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “চিটার ও চাঁদাবাজদের একটি কুচক্রী গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ও বিভ্রান্তি ছড়াতে এ ধরনের অপকর্ম করছে। প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্য যেকোনো ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা ধান্দাবাজি করতে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় মামলা করে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা উচিত।” 

সন্দেহজনক ফোনকল বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ঘটনাটির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অর্থ দাবির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

 

 

 



  
  সর্বশেষ
তাহসিফ হত্যা : ফের রিমান্ডে দীপ
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান
‘মনে হচ্ছে একটা যুদ্ধক্ষেত্র’: আতঙ্কে মিরপুরের বাসিন্দারা
পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালো আন্দোলনকারীরা

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com