আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সেই বিশাল গ্যালারিতে তিন বছর আগে প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া যেভাবে নীল জনসমুদ্রকে স্তব্ধ করে দিয়ে ভারতকে কাঁদিয়েছিল, আজ ৮ মার্চ (রবিবার) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে সেই একই ভেন্যুতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে ভারত কি পারবে সেই বিষাদগাথা মুছে নতুন ইতিহাস লিখতে—এটিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পরিসংখ্যানের বিচারে আজ স্বাগতিক ভারতের সামনে তিনটি অনন্য রেকর্ডের হাতছানি; জিতলে তারা হবে প্রথম কোনো স্বাগতিক দেশ যারা ট্রফি জিতবে, প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখবে এবং প্রথম কোনো দেশ হিসেবে তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করবে।
অন্যদিকে, ২০১৫, ২০১৯ এবং ২০২১ সালের সাদা বলের বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের ক্ষত নিয়ে মাঠে নামা নিউজিল্যান্ডের সামনে আজ পরম আরাধ্য প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগ, যারা কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেমিফাইনালে চূর্ণ করে ফেভারিটের তকমা ছাড়াই ফাইনালে উঠে এসেছে।
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ইতিহাস, কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের তিন লড়াইয়েই কিউইদের কাছে হার মানতে হয়েছে মেন ইন ব্লু-দের; তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জাসপ্রিত বুমরাহ্র বোলিং ম্যাজিক এবং শেষ দুই ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং করা সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে চড়ে রোহিত শর্মার উত্তরসূরিরা আজ সেই অভিশপ্ত রেকর্ড ভাঙতে মরিয়া।
লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি আহমেদাবাদের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ১.৫ বিলিয়ন ভারতীয়র পাহাড়সম প্রত্যাশার চাপ সামলে স্বাগতিকরা উৎসব করবে নাকি ফিন অ্যালেনের মারকুটে ব্যাটিং আর স্যান্টনারের কৌশলে আরও একবার আহমেদাবাদের গ্যালারি নিস্তব্ধ হয়ে যাবে, তার উত্তর মিলবে আজ রাতের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে, যেখানে বৃষ্টির কোনো শঙ্কা না থাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও রোমাঞ্চকর ফাইনালের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা বিশ্ব।