আগামী জুনে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাচ্ছে ফুটবলের মহোৎসব ২০২৬ বিশ্বকাপ; তবে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা এবং শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা ও বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সরাসরি যোগ্যতাপর্ব পার করে আসা ইরান ইতিমধ্যে `জি` গ্রুপে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে এবং তাদের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
চলমান উত্তেজনা ও নিষেধাজ্ঞার জটিলতায় ফিফা এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না চাইলেও সংস্থাটির মহাসচিব ম্যাচিয়াস গ্রাফস্ট্রম বার্ষিক সাধারণ সভায় জানিয়েছেন যে, তাঁরা বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং তিন আয়োজক দেশের সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুতে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং পরিস্থিতির গভীর পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, খোদ ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজও স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পর এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা তাঁদের জন্য এখন অত্যন্ত কঠিন এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী, যদি শেষ পর্যন্ত ইরান এই আসর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় অথবা তাদের নিষিদ্ধ করা হয়, তবে কোয়ালিফায়ার রুটের সরাসরি রানার্সআপ দল হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামনে বিশ্বকাপে খেলার এক নাটকীয় সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ফুটবল বিশ্বে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।