কলম্বোর নিজ মাঠে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে টিকে থাকার অন্তিম লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। কিউইদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৯ রানের মাঝারি মানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লঙ্কান ব্যাটাররা শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে মাত্র ১০৭ রান তুলতে সক্ষম হয়, যা তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের করুণ চিত্রটিই ফুটিয়ে তোলে। রান তাড়া করতে গিয়ে লঙ্কানরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম খাদের কিনারে চলে যায় এবং পরবর্তী ব্যাটাররা কিউই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় স্কোরবোর্ড এক সময় ৭৭ রানে ৭ উইকেটে পরিণত হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাট থেকে এবং দুনিত ভেল্লালাগে করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান, তবে কিউই স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রর ২৭ রানে ৪ উইকেটের জাদুকরী স্পেল শ্রীলঙ্কার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডের শুরুটাও সুখকর ছিল না, ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর লঙ্কান স্পিনারদের ঘূর্ণিতে মাত্র ৫৪ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে তারা ৮৪ রানে ৬ উইকেটের গভীর সংকটে পড়ে। কিন্তু ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাকনকি, যাদের আগ্রাসী ৪৭ বলের ৮৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি কিউইদের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়; বিশেষ করে স্যান্টনারের ২৬ বলে ৪৭ এবং ম্যাকনকির ২৩ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে কিউইরা শেষ ৪ ওভারে ৭০ রান সংগ্রহ করে ১৬৮ রানের শক্ত অবস্থানে পৌঁছায়। লঙ্কানদের পক্ষে মাহিশ থিকশানা ও দুশমন্থ চামিরা ৩টি করে উইকেট নিলেও শেষ দিকে স্যান্টনার-ম্যাকনকি জুটির তাণ্ডবই মূলত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়, যার ফলে কিউইরা সফলভাবে লঙ্কান স্পিন চ্যালেঞ্জ জয় করে জয় ছিনিয়ে নেয় এবং স্বাগতিকদের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।