বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   বিশেষ সংবাদ
ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দারুল আলমকে শোকজ, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
  Date : 24-06-2026
Share Button

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. দারুল আলমের বিরুদ্ধে অফিসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সুত্রপাত

বিভিন্ন পরিপত্র ও জারিকৃত আদেশের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, গত ২০ মে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত কর্মকর্তা মো: দারুল আলম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে আরও বলা হয়, তার এহেন আচরণের ফলে সভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অফিসের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ঘটনায় ঠাকুরগাঁও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে সেদিনই (২০ মে) তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

পরবর্তীতে, দারুল আলম গত ১ জুন উক্ত নোটিশের লিখিত জবাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেন। জবাবে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বৈঠকে তিনি কোনো অসদাচরণ করেননি এবং ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

পরে, তার ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পর রংপুর বিভাগের পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে ২৫ জুন আরেকটি পত্র জারি করা হয়। ওই পত্রে দারুল আলমের জবাব সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত দারুল আলম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।

তদন্তে দোষী প্রমানিত হলে দারুল আলমের বিরুদ্ধে কি ধরণের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, অতীতে বহুবার দারুলের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তার কারণে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে সবাইকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উচ্চমহলে চিঠি দেয়া হয়েছে তখনই কোনও এক রহস্যজনক কারণে সেই চিঠিগুলো উধাও হয়ে গেছে। এবারও যদি তেমনটা ঘটে তাহলে দারুল আলম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় এবার তার ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

আমলনামা

মো. দারুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের দীর্ঘ অভিযোগের আমলনামা রয়েছে। দৈনিক বর্তমান দিনের বিশেষ অনুসন্ধানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ উঠে এসেছে যে তা একটিমাত্র প্রতিবেদনে তুলে ধরা অসম্ভব। মাগুরায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার নানা অপকর্ম নিয়ে `দ্য ফিন্যান্স টুডে` একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো। এছাড়াও দ্য ইনভেস্টর, দৈনিক বর্তমান দিন, যুগান্তর, ইনকিলাব, দেশ রূপান্তরসহ দেশের প্রথমসারির একাধিক গনমাধ্যমে দারুলের অজস্র অনিয়ম, নিয়োগ-বদলী বানিজ্য, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাঁর আমলনামায় থাকা প্রধান অভিযোগসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো।

নিয়োগ বাণিজ্য: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একটি বড় সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লোকজনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।স্বজনপ্রীতি: ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি মাগুরায় একই পরিবারের ৫ জন এবং অপর এক পরিবারের ২ জনসহ মোট ১৫ জনকে চাকরি দিয়েছেন।

ভুয়া সনদে নিয়োগ: ভুয়া নাম ও সনদে চাকরি পেতে এবং ভুয়া ঠিকানার কাগজপত্র তৈরি করে তাঁর শ্যালিকাসহ বেশ কয়েকজনকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রমাণ ও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থ আত্মসাৎ: মাগুরায় কর্মরত থাকাকালীন সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেশমা খাতুনের সাথে পরস্পর যোগসাজশ করে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন বিল-ভাউচারে প্রতিস্বাক্ষর করে তা কল্যাণ বোর্ডে পাঠান এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেন।

বেতন থেকে টাকা কর্তন: মাগুরা সদরের গোপালগ্রাম পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকার বেতন থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উপ-পরিচালক পর্যন্ত গড়ায়। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া ভ্রমণভাতা ও ভুয়া বিল তোলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

নারী সহকর্মীকে হেনস্থা ও কুপ্রস্তাব: চাহিদা মাফিক ঘুস না দেওয়ায় এবং তাঁর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কর্মস্থলে এক নারী সহকর্মীকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই নারী সহকর্মীর বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে দারুল আলমের লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে মাগুরার তৎকালীন জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী (বর্তমানে গুদামরক্ষক) ফারুক হোসেন। দারুল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (টিএফপিএ) হতে সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেয়ে সাতক্ষীরা আশাশুনিতে যোগদান করেন। সেখানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার না থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের দায়িত্ব পেয়ে দুর্নীতির বন্যা বইয়ে দেন। তার দুর্নীতির কারণে একটা সময় এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিলো।

প্রথম থেকেই দারুল আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নির্লিপ্ত থাকার কারণে দুদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা এসব প্রতিবেদন আমলে নিয়ে দারুলের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে শাস্তিমূলক বদলীর সুপারিশ করে। 

শাস্তির বদলে পদোন্নতি

দারুল আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক মামলা দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১২ মার্চ তাকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলী করা হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উক্ত বদলির আদেশ পরিবর্তন করে ১৯ মার্চ যশোরের শার্শা উপজেলার সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলী করা হয়। কিন্তু আশ্চর্য্যজনকভাবে এই বদলীর আদেশের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করেন। অদ্যাবধি উক্ত মামলা চলমান থাকাবস্থায় অদৃশ্য ক্ষমতাবলে দুদক কর্তৃক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দারুল আলমের নাম পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর পত্র প্রেরণ করে।

পরবর্তীতে, কয়েকদফা পদোন্নতি প্রদান-বাতিল নিয়ে চিঠি চালাচালি এবং দারুলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও তথ্য গোপন করে পদোন্নতির সুপারিশ বাতিলে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার আগেই আকস্মিকভাবে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দারুল আলমকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত এবং আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে মন্তব্য করেন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টঁ অনেকেই।

নেপথ্যের কুশীলব

অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পর `দৈনিক বর্তমান দিন` এর একটি চৌকস টীমের নিবিড় অনুসন্ধানে নেপথ্য কুশীলব হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অডিট শাখার কর্মকর্তা ফারহানা রহমান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালেয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান শাখায় কর্মরত সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের নাম উঠে আসে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিশ্বস্ত একটি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মামলার তথ্য গোপন করে এবং প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যাল ঢাকা-১ এর কেস নং এটিও ১০১/২০২০ চলমান থাকা অবস্থায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অডিট শাখার কর্মকর্তা ফারহানা রহমান (সাবেক সহকারী পরিচালক পার-২) এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালেয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান বিভাগের বাজেট শাখায় কর্মরত শরিফুল ইসলাম (সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা) প্রশাসন শাখায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে/ঘুষ নিয়ে মন্ত্রনালয়ের উপসচিব পার-২ মকবুল হোসেনের সাথে যোগসাজশে মন্ত্রনালয়ের একই শাখার যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কে ভুল বুঝিয়ে এবং সুকৌশলে দারুল আলমের মামলার তথ্য গোপন করে তাকে সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদ থেকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে সহযোগিতা করেন।

প্রশ্নবিদ্ধ পদোন্নতি

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন কেস/অভিযোগ থাকলে কোনক্রমেই তার পদ্দোন্নতি দেয়া সম্ভব নয় এবং এটি সরকারি চাকরিবিধির সম্পুর্ন পরিপন্থী। এই ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক পার-২ ফারহানা রহমান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের পার- ২ শাখার উপসচিব পার-২ মকবুল হোসেন (০১৭৬০২২৩৩৮৮) ও অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ( ০১৭১৬৩৬৪৬১২) এর সাথে যোগাযোগ করলে ফোন/কল রিসিভ না করে ফোন বন্ধ করে দেন

মাগুরা জেলায় ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকলনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালীন দারুল আলম অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পদবাণিজ্যে রীতিমতো আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং নিয়োগ বানিজ্য করে তিনি মাগুরায় একই পরিবারের ৫ জন এবং অপর এক পরিবারের ২ জনসহ মোট ১৫ জনকে চাকরি দিয়েছেন। এই নিয়োগবানিজ্য করে তিনি মোটা অংকের টাকা নিয়েছিলেন। বিষয়টি ফাঁস হলে সেসময় দুর্নীতি ও ভ্রমণভাতা জালিয়াতির অভিযোগে দুদক তার নথিপত্র জব্দসহ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এরপর চাকরিতে ফিরে তিনি ফের দুর্নীতি চালিয়ে যান।

সংক্ষিপ্ত সম্পদ বিবরণী

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান দারুল আলম চাকরিতে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন।। সেই টাকার প্রতাপেই স্বল্প সময়ে ঢাকার মিরপুর ও কল্যানপুরে কিনেছেন ফ্ল্যাট। স্ত্রী ও মায়ের নামে ব্যাংক ও পোষ্ট অফিসে টাকা রেখেছেন ফিক্সড ডিপোজিটে। তার বেনামে অনেক সম্পত্তি থাকলেও প্রকাশিত সম্পত্তির মধ্যে মাগুরা পিটিআইর সামনে গ্যাডো ক্লিনিকের ৭ শতক জ আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। পারনান্দুয়ালীর ১১ শতক জমির আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা। দলিলে তিনি এসব জমির দাম দেখিয়েছেন অনেক কম।

নামে-বেনামে নানা সম্পত্তিসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া দারুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ কর্ম কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। কিন্তু এরপরও বহাল তবিয়তেই আছেন তিনি। তবে, সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে সর্বমহলে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনস্থ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মাগুরা সদরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. দারুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের দীর্ঘ একটি তালিকা নিয়ে `দৈনিক বর্তমান দিন` নিবিড় অনুসন্ধান করছে। এনিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আকারে আগামী পর্বে প্রকাশিত হবে।



  
  সর্বশেষ
রাজবাড়ীর এক ল্যাম্পলাইটার: চার শতাধিক মানুষের চোখে আলো ফিরিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার খান
ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দারুল আলমকে শোকজ, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
এসেট প্রকল্পে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম নিয়ে বিশ্বব্যাংকে লিখিত অভিযোগ
গোপালগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com