অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার রহস্যজনক আত্মহত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আলভী গত রোববার (১ মার্চ) বিকেলে নেপাল থেকে দেশে ফিরলেও রহস্যজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন, যার ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কিছু সময় সেখানে অবস্থান করলেও একজন মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় তিনি সবার অলক্ষ্যে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এবং দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় পুলিশ এখনও তাঁকে খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
যদিও নেপালে অবস্থানকালে আলভী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে দেশে ফিরে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন, বাস্তব ক্ষেত্রে তিনি তা না করে নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়ে গেছেন; এদিকে পল্লবী থানা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে আলভীকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং একই সাথে তাঁকে জনসম্মুখে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদের দায়ের করা এই হত্যা প্ররোচনা মামলায় আলভী ছাড়াও অভিনেত্রী তিথি এবং আলভীর মাকেও আসামি করা হয়েছে; যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে ২০১০ সালে প্রেমের বিয়ে এবং একটি পুত্রসন্তান থাকা সত্ত্বেও আলভীর পরকীয়া ও দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনই ইকরাকে আত্মহত্যার চরম পথে ঠেলে দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হওয়া ইকরার ব্যক্তিগত কথোপকথন বা চ্যাটগুলো এই মামলাকে নতুন এক নাটকীয় মোড় দিয়েছে এবং পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে, যার ফলে অভিনেতা জাহের আলভীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।