পর্ব-১
মোঃ আলমগীর হোসেন: বিপুল পরিমান ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করে টাকা সরকারী কোষাগারে/রাজস্ব খাতে সঠিক পরিমান জমা না করে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি হলেন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কুশদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তৎকালীন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। বর্তমানে তিনি শরিয়তপুরে গোসাইরহাট ভূমি অফিসে কর্মরত আছেন।
উক্ত ভূমি কার্যালয়ে ০৭-০৪-১৪ থেকে ২১-০৫-১৫ এবং ২০-০২-১৮ থেকে ০৯-০১-২২ পর্যন্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালনকালে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলায় প্রজার কপি ও কার্বন কপিতে (৩নং রেজিস্ট্রার-এ) আদায়কৃত অর্থে গড়মিল পরিলক্ষিত হয়। হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) এর দপ্তর, গাজিপুর-২ এর একটি বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে (স্মারক নং ৩১.০৫.০০০০.৭৯১.০১.০২৫.২২.১১৬, তারিখ ০২.০৩.২২ খ্রি) দেখা যায়, নানা অপকৌশলে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী অনু”েছদ ১ এ ‘পরিশিষ্ট ক’-তে নরোত্তমপুর, বাঘুয়া, লোহাদিয়া, বারিষাব, গাওরার, সালদৈ, ঘাগটিয়া, লোহাদি, ডাওরা, চরদূরলভখাঁ মোট ১৮ টি মৌজায় ১৬টি জোত-এ আ. রশিদ, হুরমত উল্লাহ, শুক্কুর আলী, খলিল গং, আলহাজ দানিছ মিয়া গং, জহিরুল হক গং, আজিজুল হক গং, মরিয়ম ফাউন্ডেশন, আনুয়ারা বেগম গং এবং রুহানী আমিন গং এর নিকট থেকে আদায়কৃত ভূমি উন্নয়ন কর সন জালিয়াতিসহ নানা কৌশলে সরকারি কোষাগারে ৩নং রেজিস্ট্রার-এ জমা না দিয়ে ১,৯৭,৫৬৫/= টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
একই কায়দায় ‘পরিশিষ্ট খ’ তে দেখা যায়, নরোত্তমপুর, গাওরার, বাঘুয়া, খিরাটি, ঘাগটিয়া, লোহাূি, কামারগাও, ৩১নং বাঘুয়া, চর দূরলভখা, বারিষাব, নয়ানগর, ডাওরা, বর্জাপুর, চেনাহাদী, কুশদী, ছেলদিয়া, লোহাদিয়া, বারাব, কির্তনিয়া, গাওরার, সালদৈ, শ্যামপুর, চর খিরাটি, ভিকারটেক, বাঘুয়া, চেংনা, জাব ও বারাবসহ প্রায় দু’শতাধিক মৌজায় ওমর আলী, আ কদ্দুস, জামাল বন্ধুবাসী, আবু বিন মো জোবায়ের, চান মেহের, মেজবাহ উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, মোছলেহ উদ্দিন, রুমা আক্তার, আব্দুস সালাম, কামরুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, সামসুন্নাহার, মজিদ খাঁ, বাতেন, ইসতাকুর রহমান, মফিজ উদ্দিন, রহিম বক্স, হারিজ উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, মিলন মিয়া, আহাদ বক্স, সন্তোষ কুমার বর্মন, মিয়া চান, ইসমাইল, ফারুক মিয়া, সামসুদ্দিন, মরিয়ম ফাউন্ডেশন, আলী গং, মিলন মিয়া, আ মান্নান, রাজু মিয়া, সামছুল ইসলাম, জগরি মুচি, খলিল গং, জলিল গং, আ রউফ গং, হালিমা খাতুন সহ মোট ২৪৭ জনের কাছ থেকে ২৪৭ টি জোতে ভূমি উন্নয়ন কর হিসাবে আদায়কৃত টাকা থেকে ১৩, ৩০,৭৪৩/=টাকা সন জালিয়াতিসহ নানা কৌশলে ৩ নং রেজিস্ট্রার-এ কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
অন্যদিকে, ৩নং রেজিস্ট্রার পৃষ্টা নং ১৪৬, তারিখ ০৪/১০/২১ প্রকৃত যোগফল ৮,২৫৩/= টাকার ¯’লে প্রদর্শিত যোগফল ৭,১৫১/= টাকা দেখিয়ে ১,১০২/= টাকা এবং একই রেজিস্ট্রার-এ পৃষ্ঠা নং ১৭২, তারিখ ০৩/০১/২২ ইং, ৩,৩৬৫/= টাকা জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন।
এভাবে, ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান (১,৯৭,৫৬৫+১৩,৩০,৭৪৩+১,১০২+৩,৩৬৫) মোট ১৫,৩২,৭৭৫/= টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
নাম প্রকাশে অনি”ছুক ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান- এতো গেল শুধু তার কুশদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কয়েক বছরের আত্মসাৎকৃত টাকা। ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের অতীতের কর্ম¯’লগুলোর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রজার কপিগুলো সংগ্রহ করে কার্বন কপির সাথে হিসাব করলে আরো বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের খোঁজ মেলার সম্ভাবনা আছে।
ইতোপূর্বে এরকম অভিযোগে তাকে একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে রহস্যজনকভাবে পূণর্বহাল হয়েছেন বলে জানা যায়।
অপর একটি সূত্র জানায়, গাজিপুরের উত্তর ছায়াবিথী এলাকায় নূরজাহান টাওয়ারে কামরুজ্জামানের কোটি টাকা মূল্যের আলীশান দুটি ফ্ল্যাট ও পাশের আরেকটি জায়গায় তার কেনা ১০ কাঠার একটি প্লট রয়েছে- এবিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। দ্বিতীয় পর্বে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
এবিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এর মতামত জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। (চলবে)