মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধাবস্থা ও নিরাপত্তার খাতিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক ও কুয়েতসহ সাতটি দেশের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নজিরবিহীন স্থবিরতা নেমে এসেছে, যার ফলে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ষষ্ঠ দিনের মতো ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় গত ছয় দিনে মোট ২১০টি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদের দেওয়া তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ এবং বিশেষ করে শারজাহ ভিত্তিক এয়ার অ্যারাবিয়ার সর্বোচ্চ ১০টি ফ্লাইটসহ এমিরেটস, গালফ এয়ার ও ফ্লাই দুবাইয়ের মতো বড় বড় এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও দুবাই, আবুধাবি, দাম্মাম ও দোহাগামী তাদের সমস্ত নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী বিমানবন্দরে এসে চরম অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বিকল্প রুট ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল ধস নামতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই আটকে পড়া যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যদিও টিকিটের অর্থ ফেরত বা নতুন শিডিউল পাওয়া নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের দুশ্চিন্তা এখনও কাটেনি।